Header Ads Widget

বিসিএসে সফলদের লুকানো স্ট্র্যাটেজি—রহস্য উন্মোচন!

একই বই, ভিন্ন ফল — আসলে পার্থক্যটা কোথায়?

ভাবুন তো—একই বই হাতে নিয়ে দু’জন মানুষ হাঁটছে ভিন্ন পথে। একজন বিসিএস ক্যাডার হয়ে বেরিয়ে আসছে, আরেকজন সেই বই নিয়েই বছরের পর বছর ঘুরপাক খাচ্ছে প্রাইমারির চাকরির দরজায়।
পৃথিবীতে কি এমন কোন অদ্ভুত ম্যাজিক আছে যা কেবল এক শ্রেণির মানুষেরই কাছে থাকে?
না, মোটেও না।
পার্থক্যটা তৈরি হয় একটি শব্দে—পদ্ধতি


আমরা ছোটবেলায় টিভি দেখতাম। সিনেমা-নাটক দেখতে গিয়ে অসংখ্য বিজ্ঞাপন দেখেছি।
বিজ্ঞাপনের কোনটা মুখস্থ করার চেষ্টা করেছেন?
করেননি।
তবুও অনেক অ্যাড আপনার মাথায় গাঁথা ছিল। কেন?
কারণ সেটা জোর করে নয়, বারবার আপনার মস্তিষ্কে ধাক্কা দিয়েছে।

কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমরা কী করি?
এক বসায় সব গিলতে চাই!
এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

যে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে, সে যে বই পড়ে—আপনিও ঠিক সেই একই বই-ই পড়েন।
পার্থক্য শুধু মনে রাখার ক্ষেত্রে।
সে ৯০% মনে রাখতে পারে, আর আপনার মাথায় ৪০–৫০% থাকে কষ্ট করে।
এটাই মিটিগেট করার লড়াই।

সমাধান একটাই — একই জিনিসকে বারবার পড়া।

মুখস্থ করার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র রিপিটেশন
আপনি যদি একটি সূরা বসে বসে মুখস্থ করতে যান, তিন ঘণ্টা গেলেও নাও হতে পারে।
কিন্তু যদি সেটি লিখে দেয়ালে লাগিয়ে প্রতিদিন সকালে–রাতে সামান্য রিডিং দেন,
এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি আপনারই হয়ে যাবে।

পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা।
এক বসে সব শেখার কথা ভুলে যান।
বরং—
আজ পড়লেন,
কাল আবার পড়লেন,
পরশুও চোখ বুলালেন—
এভাবেই জ্ঞানের বীজ মাথায় শেকড় গাঁথে।

একটি কার্যকরী টেকনিক শুনুন—

ধরুন, আপনি বাংলাদেশ বিষয়াবলি বই হাতে নিয়েছেন।
প্রথমেই যেগুলো পারেন না সেগুলোতে দাগ দিন।
যেগুলো পারেন, সেখানে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।

একবার রিডিং দিয়ে ফেলুন।
দেখবেন দাগ দেওয়া অংশ বাদে পুরো বই ছোট হয়ে এসেছে!
পরেরবার কারেন্ট টপিকগুলো পড়তে আপনাকে পুরো বই ধরতে হবে না—শুধু সেই দাগানো অংশগুলো।

প্রথমবার একটি বই শেষ করতে যদি লাগে ১৫ দিন,
দ্বিতীয়বার সেই একই বই শেষ করতে লাগতে পারে মাত্র ৫ দিন।

এভাবে সব বই দুইবার রিডিং দিয়ে শেষ করুন।
তারপর ধরুন জব সলিউশন
সেটাও ব্যাখ্যাসহ দুইবার পড়ুন।
ব্যাখ্যাসহ পড়া জরুরি—কারণ সেখানে বুঝে পড়ার ক্ষমতা তৈরি হয়।

সাথে নিয়মিত—

  • মডেল টেস্ট
  • সাবজেক্টিভ টেস্ট
  • এনব টেস্ট

দিতে থাকুন।
পরীক্ষাই আপনাকে নিজের দুর্বল জায়গা দেখিয়ে দেবে।

আর প্রতিদিন—

  • অন্তত ১ ঘণ্টা গণিত
  • ১ ঘণ্টা ইংরেজি
    প্র্যাকটিস রাখবেন।
    যদি এই দুই বিষয়ে দুর্বল হন, কোনো ভালো স্যারের কোর্সে ভর্তি হোন—এটা বিনিয়োগ, খরচ নয়।

এক বছর টানা এই রুটিন ফলো করুন…

তারপর নিজেই দেখবেন—
আপনার প্রতিটি সাবজেক্ট তিন থেকে চারবার রিভিশন হয়ে গেছে।
এমন একজন মানুষ কোনো চাকরির পরীক্ষায় ফেল করবে?
অসম্ভব।
আপনাকে ফেলানোর মতো প্রশ্ন এখন আর তৈরি নাও হতে পারে।

বিশ্বাস রাখুন—শুধু বই নয়,
পড়ার পদ্ধতিই আপনার ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।

আজ শুরু করুন।
আগামী এক বছর আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে—ইনশাআল্লাহ।


Post a Comment

0 Comments